শাহিন আলম: ভৈরব, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পঞ্চবটি বউ বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক সংগঠন “মাদক নির্মূলে আমাদের চেষ্টা”কে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও, স্থানীয় পর্যায়ে ওঠা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত ১৯ মে রাতে “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিয়াকে কথিত মাদক লেনদেন ও বিভিন্ন কথোপকথনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হয়। ভিডিও প্রকাশের পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ইউসুফ মিয়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং একটি মাদকবিরোধী সংগঠনের দায়িত্বশীল পদেও ছিলেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গরুর মাংস বিক্রি সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিক্রিত মাংসের উৎস নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউসুফ মিয়া। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং তিনি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমের আড়ালে সংগঠনের নেতৃত্বে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, সংগঠনের প্রভাব ব্যবহার করে ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বড় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে অন্য এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংগঠনের সভাপতি ওমর মোহাম্মদ অপু বলেন, অভিযোগ ওঠার পর সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংগঠন সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে কাজ করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, “ইউসুফ নিজেই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।”
সংগঠনের উপদেষ্টা ফারুক মিয়া বলেন, “আমাদের সংগঠনের কোনো সদস্য যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ভৈরব পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আক্তারুজ্জামান বলেন, “মাদক প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “কোনো সামাজিক সংগঠনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার নেই। অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন এখন একটাই—ভাইরাল ভিডিও, মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ এবং সংগঠনকে ঘিরে বিতর্কের পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী? অভিযোগগুলোর সত্যতা ও বাস্তব চিত্র বেরিয়ে আসতে নিরপেক্ষ তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।
![]()