কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পৌর শহরের পঞ্চবটি গ্রামের কাঠের পুল এলাকায় অবৈধভাবে খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে খালের অংশবিশেষে বালু ভরাটের কার্যক্রম চলছে, যা পরিবেশ ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরবপুরের সাতমুখী বিল, কমলপুরের বাল্লা বিল, জগন্নাথপুর, লক্ষীপুর, আমলাপাড়া ও পঞ্চবটি গ্রামের পানি দীর্ঘদিন ধরে এই খালের মাধ্যমে মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে প্রবাহিত হতো। এলাকাবাসীর দাবি, খাল ভরাট অব্যাহত থাকলে পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি উমর মোহাম্মদ অপু, জনসেবা বালি প্রকল্পের কর্ণধার, জনসেবা সঞ্চয় ঋণ দান সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান ও বিএনপির প্রভাব শালী নেতা ফারুক আহমেদ, উপজেলা তাতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাদীম, বিএনপির নেতা শাহিনসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে খাল ভরাটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কালা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমার মাছ চাষের বিলে জোরপূর্বক মাটি ভরাট করা হয়েছে। আমাকে টাকার জন্য জনসমক্ষে অপমান করা হয়। এমনকি টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে আমি এক লাখ টাকা প্রদান করি। আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই।”
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা কাদির মিয়া বলেন, “আমি আমার নিজস্ব জমি ভরাট করেছি। আগে এখানে মাছ চাষ করতাম, এখন প্রয়োজন অনুযায়ী বালু ভরাট করেছি।” তবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেননি।
অভিযুক্ত ফারুক মিয়া বলেন, “ড্রেজার মালিক মামুন, উমর মোহাম্মদ অপু, নাদীম, শাহিন ও আমি মিলে খালের প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা ভরাট করেছি। বাকি ৭০ শতাংশ জলাশয় হিসেবে রাখা হয়েছে।”
পৌর ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়সহ এলাকার অসহায় মানুষের জলাশয় জমি জোরপূর্বকভাবে দখলের চেষ্টা চলছে। বালুর টাকা না দিলে জমি দখলেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি পূর্বে প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকার সচেতন নাগরিকরা দাবি করছেন যেখানে বর্তমান সরকার খাল খননে কাজ করছেন আর এখানে চলছে অবৈধ ভাবে ভরাট। এই বিষয়ে প্রসাশন এখনি ব্যবস্থা না নিলে আমারা ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা স্বীকার হবো।
![]()