শাহিন আলম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভূমি দখল, সমবায় আইন লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ‘ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প বহুমুখী উন্নয়ন সমিতি’। শনিবার (১৩ জুন) উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. নবীউল ইসলাম ও ভৈরব উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রুবাইয়া বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, সহ-সভাপতি কুতুব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ‘ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প উন্নয়ন ব্যবসায় সমবায় সমিতি লিমিটেড (নিবন্ধন নং-৯৫)’ নামের একটি সমবায় সংগঠন বিভিন্ন সময়ে নাম পরিবর্তন ও বিকৃত করে পরিচালিত হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ‘ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প বহুমুখী উন্নয়ন সমিতি’র ক্রয়কৃত সম্পত্তির ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
তাদের দাবি, ২০১৭ সালে সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমবায় সমিতিটির নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা হলেও তা দীর্ঘদিনেও কার্যকর হয়নি। বরং রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সহায়তায় সংগঠনটিকে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সালে প্রস্তুতকৃত একটি অডিট প্রতিবেদনে অন্য সংগঠনের জমির তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সদস্য তালিকায় অননুমোদিত ব্যক্তিদের নাম সংযোজন করা হয়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়।
সমিতির নেতারা জানান, জেলা সমবায় কার্যালয়ের পূর্ববর্তী তদন্ত ও সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ‘ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প বহুমুখী উন্নয়ন সমিতি’র দাবি স্বীকৃত হয়েছিল। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সমবায় বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় অকার্যকর সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করে ভূমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে এলাকায় বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রুবাইয়া বেগম বলেন, “সমবায় সমিতির ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সুযোগ আমাদের নেই। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সদস্যদের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিরোধ নিষ্পত্তি হলে সমবায়ের নিয়ম অনুযায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”
সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ বলেন, ভূমির প্রকৃত মালিকানা ও সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় তারা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
![]()