ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে মাদক পরিবহনে সহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আরএসবির সদস্য মো. আমিনুলের বিরুদ্ধে
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে মাদক পরিবহনে সহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আরএসবির সদস্য মো. আমিনুলের বিরুদ্ধে
শাহিন আলম, ভৈরব প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে নিয়মিত মাদক পরিবহনে সহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (আরএসবি) সদস্য মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সীমান্ত এলাকা থেকে ট্রেনযোগে আসা মাদকের চালান নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি প্রতি চালানে মোটা অঙ্কের টাকা উৎকোচ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রেনযোগে মাদকের বড় বড় চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচার করা হয়ে থাকে। সম্প্রতি ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনে আসা মাদকের চালান ভৈরব স্টেশন এলাকা নিরাপদে পার করে দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন আরএসবি সদস্য আমিনুল ইসলাম। প্রতিটি মাদকের চালান সফলভাবে স্টেশন পার করে দেওয়ার জন্য তিনি ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরো জানা যায়, আজমপুর স্টেশন থেকে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রায় প্রতি রাতেই মাদক ব্যবসায়ী গেদু মেম্বার, জুবায়ের ও শাহিনের মাদকের চালান পাঁচার হয়ে থাকে। ভৈরব স্টেশনে পৌঁছার পর এসব অবৈধ পণ্যের নিরাপত্তা ও পাঁচারের কাজটি সমন্বয় করেন আমিনুল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, গত মাসে প্রায় ৭ কেজি গাঁজা জব্দ করার পর তা নিজের হেফাজতে নেন আমিনুল। পরে সেই গাঁজা এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। জব্দকৃত গাঁজার প্যাকেটটি রেলওয়ে স্টেশনের শৌচাগারের পাশে রাখা হয়েছিল। ওই সময় শৌচাগারের দায়িত্বে থাকা রাজ্জাক হিজরা ৭ কেজি গাঁজার থেকে ২ কেজি নিজে রেখে কাপড় পেঁচিয়ে রেখে দেয়। পরে ওই মাদক অন্য এক ব্যবসায়ী কিনে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে অভিযুক্ত আমিনুল ওই হিজরাকে মারধর করে স্টেশন এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার (এসপি) নাম ভাঙিয়ে স্টেশনে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছেন এই আরএসবি সদস্য। প্রায়ই তিনি নিজেই এককভাবে মাদকবিরোধী অভিযানের নাটক সাজান এবং মাদক কারবারিদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
ভোর ৪টায় আজমপুর স্টেশন থেকে উপবন ট্রেন ছেড়ে আসার পর থেকেই তৎপর হয়ে ওঠেন আমিনুল। ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে পৌঁছালে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে মাদকের চালানগুলো নিরাপদে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেন। অনেক সময় ট্রেনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি টিম আসলে আমিনুল তার সোর্স ও সহযোগীদের আগে থেকেই সতর্ক করে দেন। এমনকি তল্লাশি টিমের সদস্যদেরও নির্দিষ্ট বগিতে চেক করতে বাধা দেন এবং এসপির লোক পরিচয় দিয়ে সবাইকে হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এই ভয়ভীতির কারণে সাধারণ মানুষ ও স্টেশন সংশ্লিষ্টরা মুখ খুলতে সাহস পান না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আরএসবি সদস্য মো. আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। উল্টো তিনি অভিযোগের বিষয়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার (এসপি) সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ের পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা জানান, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের সার্পেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




