দুই ওসিসহ ১৪ পুলিশ সদস্য আসামি করে ছাত্রদল নেতার মামলা
২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহান, পরবর্তী সময়ের অচিন নাহিদ হাসান সুমনসহ ১৪ পুলিশ সদস্য, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাজহারুল হক উজ্জল বাদী হয়ে গত ২৪ মে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বাদী মাজহারুল হক উজ্জল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচী ছিলো। ওইদিন পাকুন্দিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সকল সহযোগী সংগঠন শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছিল। ওইসময় পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহানের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভরত নেতাকর্মীদের উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এসময় পুলিশের সাথে লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রাদি নিয়ে যোগ দেন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও স্প্লিটারে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত হন শ্রাবণ, জলিলসহ আরো অনেকে। এর মধ্যে শ্রাবণের শরীরে হাজারো ছররা গুলি লাগে এবং জলিলের এক চোখ অন্ধ হয়ে যায়।
মাজহারুল হক উজ্জল বলেন, ওসি সারোয়ার জাহান নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা দাবি করতেন। তাই তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচী করতে দিতেন না। তার সময়ে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী অত্যাচার, নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হয়েছেন। অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে এখনো ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় অতি উৎসাহী এসব পুলিশ কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
![]()