ভৈরব প্রতিনিধি:- ৭ হাজার টাকা ঘুষসহ হাতেনাতে আটক হয়ে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সদ্য পদোন্নতি পাওয়া অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়া। এই ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যেই ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর আজ সোমবার (২২ জুন) থেকেই ছুটিতে গেছেন অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত রোববার (২১ জুন) সকালে ভৈরব উপজেলা পরিষদ চত্বরে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ফাইলের বিনিময়ে টাকা লেনদেনের সময় তাকে আটক করেন ডিজিএফআই-এর এক কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের জন্য ঘুষ হিসেবে ৭ হাজার টাকা গ্রহণের সময় ডিজিএফআই কর্মকর্তা আব্দুস সালাম অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়াকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে বসিয়ে রাখা হয়।
গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদীপ চন্দ্র দাস জানান, ২১টি ফাইলের বিপরীতে হৃদয় মিয়া ২১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। সেই দাবির অংশ হিসেবেই তিনি প্রথম কিস্তির ৭ হাজার টাকা প্রদান করার সময় এই আটকের ঘটনা ঘটে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হৃদয় মিয়া। তার দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদীপ চন্দ্র দাস পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসিয়েছেন। অফিসে প্রবেশের সময় হ্যান্ডশেক করার ছলে তার হাতে টাকা গুঁজে দেওয়া হয় এবং পরে সেটিকে ঘুষ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে আজ সোমবার ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম. মামুনুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। ইউএনও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো: সোহেল মিয়া জানান, ঘটনাটি অফিসের বাইরে ঘটেছে। এই ব্যাপারে ইউএনও মহোদয়ের সাথে তার বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন থাকায় এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে অভিযুক্ত অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়া আজ সোমবার থেকে ছুটিতে আছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ছুটির বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত হৃদয় মিয়ার বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফাইল অনুমোদন ও সইয়ের বিনিময়ে টাকা আদায়ের নানা গুঞ্জন ও অভিযোগ শোনা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব প্রমাণ করা যায়নি। তবে এবার প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে একজন কর্মকর্তা হাতেনাতে আটক হওয়া এবং তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
![]()