কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দিনে-দুপুরে এক নৃশংস ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘুরতে এসে ছিনতাইকারীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নাদিম মিয়া (২৩) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) প্রেরণ করা হয়েছে।
আজ ৩ জুন (বুধবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে ২৯ নম্বর রেল ব্রিজ ও মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের পেছনের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত নাদিম মিয়া নারায়ণগঞ্জের পুরিন্দা এলাকার কমিজ উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জ থেকে নাদিম ও তার তিন বন্ধু ভৈরবে ঘুরতে আসেন। ঘোরাঘুরি শেষে তারা রেললাইন ধরে হেঁটে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ২৯ নম্বর রেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত তিন ছিনতাইকারী তাদের গতি রোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন ছিনতাইকারী নাদিমের ঊরুতে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এরপর তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
পরবর্তীতে নাদিমের বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহাব মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,
বিকেল ৫টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। ছুরিকাঘাতে তার ঊরুর প্রধান রক্তনালী কেটে যাওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আমরা তার পালস ও প্রেসার চেক করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। তবে অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত অ্যাকশনে নেমেছে পুলিশ। এই বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সায়িদ আহমেদ জানান, লোকমুখে ঘটনাটি শোনার পরপরই পুলিশের একটি দল আসামিদের ধরতে অভিযানে নেমেছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
![]()