বিয়ে বাড়িতে চলছিল চমকপ্রদ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গ্রাম্য পরিবেশের নৃত্য আর মনভোলানো আঞ্চলিক গানের সুরে সবাই যখন মগ্ন, ঠিক তার ওপাশেই চলছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ড। যা বিয়ে বাড়ির শোরগোলে কেউ আন্দাজও করতে পারেনি।
যখন মুমূর্ষু কণ্ঠে বাঁচার আকুতি উপস্থিত উৎসুক মানুষের কানে ভেসে আসে, ততক্ষণে তরুণ তাজুলের শরীর থেকে ছুরিকাঘাতের ক্ষতস্থান থেকে বাঁধাহীন রক্ত ঝড়ার ফলে মৃত্যু পথযাত্রী তিনি।
পুলিশ জানায়, ৩০ মে রাত ১১টায় উপজেলার চম্পাপুর ইউপির মাসুয়াখালী গ্রামের কামাল মৃধার বাড়িতে তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠান দেখতে যায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তাজুল। সঙ্গে ছিল বেশ কয়েকজন বন্ধুও। একই সময়ে ডেকারেটর কর্মী হৃদয়ের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠান দেখতে আসে সজীব খান, রিয়াদ ও রোমান নামে তিন কিশোর। আর এই কিশোররা অনুষ্ঠানস্থলে এসে ধূমপান করলে তাজুল সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে বাঁধা দেয় এবং রিয়াদকে চড় মারে।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, সিগারেট খাওয়া নিয়েই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত এবং ১৬৪ ধারায় ৪ কিশোরই জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেন, চড় মারার পরে রিয়াদ ঘটনাস্থল থেকে দূরে চলে যায়।
তবে ওই বাড়ির পুকুরপাড়ে তাজুল এবং তার বন্ধুদেরকে হাতুড়ি দিয়ে মারপিট করে সজীব, হৃদয় ও রোমানরা। মারপিট চলাকালীন তাজুলকে ছুরিকাঘাত করে সজীব। যা তাজুলের কুঁচকির নিচে ক্ষতের সৃষ্টি করে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে হামলাকারী কিশোররা ওখান থেকে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, মুমূর্ষু অবস্থায় তাজুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই কর্মকর্তা জানান, হামলায় ব্যবহৃত ছুরি এবং হাতুড়ি আমরা উদ্ধার করেছি। আটকরা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এদের মধ্যে রিয়াদের সঙ্গে তাজুলের ফুটবল খেলা নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। মূলত ওইদিনও রিয়াদকে চড় মারা হয়েছিল। তাই রিয়াদের বন্ধুরা পাল্টা হামলায় অংশ নেয় এবং তাজুলকে ছুরিকাঘাত করে।
তিনি আরও বলেন, ছুরিকাঘাতের পর স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এবং আটকদের তথ্যানুযায়ী বাকি আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান।
![]()