নিজস্ব প্রতিবেদক:- কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ দুর্জয় মোড় দখল করে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শাওন রহমান অন্তর ওরফে অন্তর লাল (২৮)সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পৌর শহরের কমলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে শাওন রহমান অন্তর লাল (২৮), ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকার মৃত সেলিম মোল্লার ছেলে আশিকুজ্জামান লেলিন (৩৫) ও লিমন মিয়া (৩৩), একই এলাকার মৃত হালিম মোল্লার ছেলে আক্তারুজ্জামান আকাশ (২৭) এবং রুহুল আমিন মিয়ার ছেলে আলাদিন মিয়া (২৬)।
পুলিশ সূত্র জানায়, এসআই এমদাদুল কবীরের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ঘোড়াকান্দা এলাকা থেকে অন্তর লালকে এবং ভৈরবপুর উত্তর পাড়া থেকে অপর চার আসামিকে আটক করা হয়।
গত ১০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কমলপুর এলাকার যুবকদের সঙ্গে দুর্জয় মোড় সংলগ্ন এলাকার যুবকদের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষকারীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল করে নেওয়ায় দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ভৈরব থানার তৎকালীন ওসি, এক পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৭ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের নির্দেশ দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, দুর্জয় মোড় সংলগ্ন এলাকার যুবকদের নেতৃত্বে ছিলেন অন্তর লাল। অপরদিকে কমলপুর এলাকার যুবকদের নেতৃত্ব দেন আরমানসহ কয়েকজন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতারউর রহমান আকন্দকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচরের সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, সংঘর্ষের সময় দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামি অন্তর লালসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
![]()