কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত যুবকের মরদেহের পরিচয় মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি ও তথ্য প্রকাশের পর তা দেখে স্বজনরা নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই যুবকের নাম মো. মাসুদ মিয়া (৪২)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার দিলালপুর ইউনিয়নের মাইজচর শ্যামপুরপাড়া গ্রামের মৃত আসাদ মেম্বারের ছেলে।
ভৈরব নৌ পুলিশ মেঘনা নদীর একটি এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় বস্তাবন্দি ওই মরদেহটি উদ্ধার করে। যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হতে নৌ পুলিশ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও তথ্য প্রকাশ করে। ইন্টারনেটে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নিখোঁজ মাসুদ মিয়ার বলে নিশ্চিত করেন।
ভৈরব নৌ পুলিশের ইউনিট অফিসার ইনচার্জ কেএম মনিরুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত ও রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এই নৃশংসতার পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতা এনে শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সেই সাথে এক চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা। নিহত মাসুদের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্বজনদের ভাষ্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এমন জঘন্য অপরাধের সঠিক বিচার হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা সুদৃঢ় হবে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্তের অগ্রগতির দিকে গভীর নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি নৌ পুলিশ।
![]()