মূল অংশে যান
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ Tuesday, 22 September 2026
নোটিশ

ভৈরব থানায় আত্মসমর্পণ করলেন পলাতক আসামি উমান মিয়া

প্রকাশ: বার পঠিত
শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

কিশোরগঞ্জের বন্দরনগরী ভৈরবে অপরাধ ও মাদকের অন্ধকার জগৎ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ উমান মিয়া (৩৫) থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২০ মে) সকাল ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ভৈরব থানায় উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
জানা গেছে, উমান মিয়া ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার জমিরউদ্দীন মুন্সি বাড়ির মৃত অহিদ মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ও মারামারি সংক্রান্ত একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে পলাতক ছিলেন। তবে জীবনের বাস্তবতা এবং অপরাধ জগতের নেতিবাচক পরিণতি উপলব্ধি করে তিনি স্বেচ্ছায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, আত্মসমর্পণের সময় উমান মিয়া নিজের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের মাদক, সন্ত্রাস, মারামারি কিংবা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার এবং সমাজে একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
উমান মিয়া বলেন, “অন্ধকার জগতে কোনো শান্তি নেই। অপরাধ মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। আমি আলোর পথে ফিরে এসে অপরাধমুক্ত জীবন গড়তে চাই এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করতে চাই। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চাই।”
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, “উমান মিয়া আত্মসমর্পণ করার পর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন পলাতক আসামির স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে যে, অপরাধের পথ সাময়িক মোহ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত তা ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যায়।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধ দমনের পাশাপাশি অনুতপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তোলাও জরুরি। কারণ সমাজের সহমর্মিতা অনেক সময় একজন মানুষকে নতুনভাবে জীবন গড়ার সুযোগ করে দেয়।

শেয়ারWhatsAppTelegramLinkedIn

এ সম্পর্কিত আরও খবর