Worlddesk

আজকের পত্রিকা | ই-পেপার | আর্কাইভ

শিমুলকান্দিতে ফ্যাসিস্ট দোসর পুনর্বহালের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনবিস্ফোরণ

“জনতার রায় অমান্য করে কেউ চেয়ার দখল করতে পারবে না”—কঠোর অবস্থানে স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক:- কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ৩নং শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদকে ঘিরে দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে ফ্যাসিস্ট শাসনামলের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত,, নিষিদ্ধ সংগঠন ভৈরব উপজেলা ছাএলীগের  সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক,,, ও বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে জোর পূর্বক নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপনকে পুনর্বহালের অপচেষ্টা। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশ্ন নয়—এটি জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দুঃসাহসিক চেষ্টা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভৈরব থানায় ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ আট মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন মিজানুর রহমান রিপন। জামিনে মুক্ত হয়েই তিনি জনমতের কোনো তোয়াক্কা না করে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারে বসার চেষ্টা চালান। এর প্রতিবাদে শিমুলকান্দিতে সৃষ্টি হয় তীব্র জনরোষ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কিশোরগঞ্জ জেলার ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের নির্দেশে চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান—উভয়ের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

সাধারণ জনগণের অভিযোগ, রিপন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলের সুবিধাভোগী, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এবং জনবিচ্ছিন্ন এক বিতর্কিত চরিত্র। তাঁর সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যত সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ হয়ে পড়েছিল। নাগরিক সেবার নামে ছিল অবহেলা, অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা—যার ভুক্তভোগী পুরো ইউনিয়ন।

স্থানীয়রা জানান, পেশায় ঠিকাদার হওয়ায় রিপনকে মাসের পর মাস ইউনিয়ন পরিষদে পাওয়া যেত না। জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ভাতা ও অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবার জন্য মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়েছে। জনপ্রতিনিধি হয়েও জনগণের পাশে না দাঁড়ানোয় তাঁর প্রতি মানুষের আস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

এর বিপরীতে প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলামিনের ভূমিকা তুলে ধরে স্থানীয়রা বলেন, তিনি নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত থাকেন, সরাসরি জনগণের কথা শোনেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করেন। তাছাড়া খোরশেদ বিএনপি অঙ্গ সংগঠন সেচ্ছাসেবক দল শিমুলকান্দি ইউনিয়ন শাখার সভাপতি,,, ফলে আজ শিমুলকান্দির মানুষের একক কণ্ঠ—“রিপন নয়, আলামিনই হোক ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীল মুখ।”

এলাকাবাসী আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট দোসর ও মামলাভুক্ত কোনো ব্যক্তিকে পুনর্বহালের চেষ্টা হলে তা গণতন্ত্র ও জনআস্থার সরাসরি অবমাননা হবে। জনগণের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—জনতার রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তারা শান্তিপূর্ণ কিন্তু দুর্বার গণআন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

শিমুলকান্দির এই সংকট এখন স্থানীয় সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে—জনতার মতামত উপেক্ষা করে কি বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন নেতৃত্ব আবারও প্রতিষ্ঠিত করা হবে, নাকি জনআস্থাভিত্তিক সৎ ও সক্রিয় নেতৃত্বের পথই বেছে নেবে প্রশাসন—এটাই এখন দেখার বিষয়।

Loading

Loading

নিজ বিভাগীয় নিউজ দেখুন.....
August 2026
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
Worlddesk