কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের পর নতুন বউকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে নববধূকে ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদলকর্মীর বিরুদ্ধে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
গত ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতা হিসেবে তিনি ডিউটি পাস পেয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন বরযাত্রীরা।
হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আতিকুরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক গাড়িটি থামান। এরপর মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে তামান্নাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর তামান্না ও আতিকুর রহমানের কথিত সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আতিকুর রহমান মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই!’।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব খবরের কাগজকে বলেন, ‘আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী। তবে কীভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে ডিউটি পাস পেয়েছিলেন, সেটা আমি বলতে পারব না।’
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ বলেন, ‘আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের ভালো কর্মী। তবে সে যে কাজ করেছে, সেটা অন্যায়। গতকালকের ঘটনার আমরা নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।’
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ওই মেয়ের সঙ্গে ছেলেটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। এ কারণেই ছেলেটি এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। মেয়ের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে নববধূকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, কীভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
![]()